বিদ্যুৎ চন্দ্র বর্মন, নিজস্ব প্রতিবেদক,
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাহমিদুর রহমানের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের প্রকাশ্যে ‘সন্ত্রাসী’ বলে গালিগালাজ করার ন্যাক্কারজনক ও অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি সাংবাদিক সমাজে চরম ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার পর জেলা প্রশাসন তাকে করতোয়া নদীর আওলিয়া ঘাটের দায়িত্ব থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করলেও, বাংলাদেশ অনলাইন সাংবাদিক কল্যাণ ইউনিয়ন (বসকো) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—এটি কোনো সমাধান নয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া সাংবাদিকদের সম্মান রক্ষা সম্ভব নয়।
গত রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভা ও মহালয়ার অনুষ্ঠানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের নৌকায় উঠতে বাধা দেন ওই ম্যাজিস্ট্রেট। অথচ একই সময়ে সাধারণ যাত্রী এবং মোটরসাইকেল যাত্রীদের সহজেই নৌকায় পারাপার হতে দেখা গেছে। সাংবাদিকরা কারণ জানতে চাইলে উত্তেজিত হয়ে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন—
“আপনারা সন্ত্রাসী, আপনাদের কর্মকাণ্ড সন্ত্রাসী।”
এমনকি সাংবাদিকদের ক্যামেরা দেখে তিনি আরও ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন—
“আপনি আল জাজিরার সাংবাদিক হন, আর যেই হন, আমার কিছু যায় আসে না। আপনি যেতে পারবেন না।”
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি ফাহিম হাসান বলেন, “ঘাটে কোনো ভিড় ছিল না। অন্যরা মোটরসাইকেল নিয়ে পার হতে পেরেছে, অথচ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে।”
কালবেলার সাংবাদিক মোশারফ হোসেন বলেন, “সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও আমাদের উদ্দেশে বলা হয়েছে—‘আপনারা তো সন্ত্রাসী।’ এটি সাংবাদিক সমাজকে অপমান করার পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে চরমভাবে হেয় করেছে।”
ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম। সাংবাদিকরা তার মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে বলেন—
“কি পারেন করেন।”
তার এই মন্তব্য প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বাংলাদেশ অনলাইন সাংবাদিক কল্যাণ ইউনিয়ন (বসকো)–এর মহাসচিব ফয়সাল হাওলাদার বলেন—
“অভিযুক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে শুধু প্রত্যাহার নয়, কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সাংবাদিকদের প্রকাশ্যে অপমান করা মানে গণমাধ্যম ও জাতির মর্যাদাকে অপমান করা। এ ধরনের ঘটনার সঠিক বিচার নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে অন্য কর্মকর্তারাও একইভাবে সাংবাদিকদের অপমান করার সাহস পাবে।”
তিনি আরও বলেন, বসকো শুরু থেকেই সাংবাদিক সমাজের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সোচ্চার থাকবে।
বসকো চার দফা দাবি জানিয়েছে—
১. ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।
২. অভিযুক্ত ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাহমিদুর রহমানের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. সাংবাদিকদের অপমানের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর নীতি ও পদক্ষেপ নিতে হবে।
৪. বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলামকে প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
সাংবাদিক সমাজ মনে করে, সাংবাদিকদের অপমান মানে জনগণের কণ্ঠস্বরকে অপমান করা। তাই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা ছাড়া এই অপরাধের বিচার সম্ভব নয়। সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষায় বসকো এবং মহাসচিব ফয়সাল হাওলাদারের অবস্থান স্পষ্ট—ন্যায়বিচার ছাড়া এই লজ্জাজনক ঘটনার সঠিক সমাধান সম্ভব নয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ লুৎফর রহমান লিটন প্রধান উপদেষ্টা: খান সেলিম রহমান - প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লব , সম্পাদক জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকা উপদেষ্টা: আওরঙ্গজেব কামাল - সভাপতি ঢাকা প্রেসক্লাব উপদেষ্টাঃ সাইদুর রহমান বাচ্চু উপদেষ্টাঃ এম দুলাল উদ্দিন আহমেদ উপদেষ্টা: শিহাব আহমেদ সম্পাদক দৈনিক আলোকিত ৭১ সংবাদ উপদেষ্টাঃ মিজানুর রহমান মিজান নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার
প্রধান কার্যালয়: সলংগা ৬৭২১সিরাজগঞ্জ। মোবাইল নংঃ ০১৭১১৪৫৪০১৮, WhatsAppঃ ০১৭১১৪৫৪০১৮ ই-মেইলঃ dailyalokitosolanganews@gmail.com
২০২৫ © দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Design & Development By HosterCube Ltd.