
- নিজস্ব প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা ও এনায়েতপুর থানার সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের সদিয়া চাঁদপুর গ্রামে গত ৪দিনে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গণে অন্তত ২৫টি বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেল থেকে এই ভাঙ্কগণের তান্য়েডব শুরু হয়েছে। এই ভাঙ্গণের তান্ডবে এ গ্রামের ২৫টি পরিবার তাদের বসতভিটা, গবাদিপশু, আসবাবপত্র ও টিনের ঘর সহ সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। ভাঙ্গণ অব্যহত থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, গত শুক্রবার বিকেলে সদিয়া চাঁদপুর চরে হঠাৎ করে যমুনা নদীর এ অংশে প্রচন্ড স্রোত ও ঘুর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে মুহূর্তের মধ্যে লালচাঁন, জুড়ান, সাইফুল, রবি, ইয়াদুল, এরশাদ আলী সহ অন্তত ৭-৮ পরিবারের বসতভিটা নদীতে তলিয়ে যায়।

এ বিষয়ে আতাহার মন্ডল(৭০) জানান, চোখের সামনে আমার বাড়িঘর নদীর স্রোতে ভেসে গেল, চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করতে পারলাম না। তিনি বলেন, “আমার জীবনে বহুবার ভাঙ্গণ দেখেছি, কিন্তু এত ভয়াবহ পরিণতি কোনোদিন দেখিনি।চোখের সামনে ভিটেমাটি নদীতে চলে যেতে দেখে বুকটা ফেটে যাচ্ছে। এখন আমরা কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেব?” সেই দূশ্চিন্তায় আছি।
সদিয়া দেওয়ানতলা সংকরহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ জানান, ভাঙ্গণ কবলিত এলাকা থেকে তাদের স্কুল ভবন মাত্র ৫৫ মিটার দূরে। আশপাশের অন্তত পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও হুমকির মুখে পড়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে জিও ব্যাগ ফেলা না হলে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুবে যাবে।
সমাজকর্মী হাফিজুর রহমান, শিক্ষক ইকবাল হোসেন ও আব্দুল মমিন জানান, কয়েক মিনিটের মধ্যে কয়েকশ মিটার জমি যমুনায় চলে গেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে এবং অন্তত ১২টি এলাকা ভাঙ্গণের ঝুঁকিতে পড়েছে। তারা অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত পুনর্বাসন ও সহায়তা প্রদানের জোর দাবি জানান।
শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমাদের বাড়িঘর, স্কুল, মসজিদ সবকিছু নদীতে চলে যাচ্ছে। আমরা দিনরাত আতঙ্কে আছি।”
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ পারভেজ। তিনি জানান, প্রায় ৩০০ মিটার এলাকা নদীতে বিলীন হয়েছে। এ ভাঙ্গণ রোধে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি শুধু বসতভিটাই নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও অন্যান্য স্থাপনা রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।