সর্বশেষ :
সলঙ্গায় সড়ক ও জনপথের জমি দখলের অভিযোগ, প্রাচীর নির্মাণ ও মাটি ভরাটের চেষ্টা। দেশে বেড়ে গেল পেট্রোল-অকটেন-ডিজেলের দাম, লিটার কত? চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে ১০ জন দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান বাগেরহাটের রামপালে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, টুস্টার বেকারিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে বাউল আবুল সরকারের বিচারের দাবিতে সাংবাদিক সংগঠনের যৌথ বিবৃতি ইউপিডিএফ ( গনতান্ত্রিক) ‘র প্রতিষ্টাবার্ষিকী তে আলোচনা সভা ও কর্মী সম্মেলন। ধর্মপাশায় শ্রী শ্রী কালী পূজা ২০বছর পূতি উপলক্ষে জননী সঙ্গের কেক কাটা অনুষ্টান গোদাগাড়ীতে আটক সোনার বারকে ঘিরে ধোঁয়াশা ময়মনসিংহ বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক গাঁজাসহ গ্রেফতার ০২ বাগেরহাটের রামপালে দেয়ালের ঘেরাটোপে ৬ টি অসহায় পরিবার; দেখার কেউ নেই
শিরোনাম :
সলঙ্গায় সড়ক ও জনপথের জমি দখলের অভিযোগ, প্রাচীর নির্মাণ ও মাটি ভরাটের চেষ্টা। দেশে বেড়ে গেল পেট্রোল-অকটেন-ডিজেলের দাম, লিটার কত? চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে ১০ জন দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান বাগেরহাটের রামপালে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, টুস্টার বেকারিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে বাউল আবুল সরকারের বিচারের দাবিতে সাংবাদিক সংগঠনের যৌথ বিবৃতি ইউপিডিএফ ( গনতান্ত্রিক) ‘র প্রতিষ্টাবার্ষিকী তে আলোচনা সভা ও কর্মী সম্মেলন। ধর্মপাশায় শ্রী শ্রী কালী পূজা ২০বছর পূতি উপলক্ষে জননী সঙ্গের কেক কাটা অনুষ্টান গোদাগাড়ীতে আটক সোনার বারকে ঘিরে ধোঁয়াশা ময়মনসিংহ বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক গাঁজাসহ গ্রেফতার ০২ বাগেরহাটের রামপালে দেয়ালের ঘেরাটোপে ৬ টি অসহায় পরিবার; দেখার কেউ নেই

সিরাজগঞ্জে তৈরি হচ্ছে কোটি টাকার প্রতিমা

  • আপডেট সময় : বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২৪ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক।

শারদীয় দুর্গোৎসব এলেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের ভদ্রঘাট পালপাড়া। দুর্গাপূজার তিনমাস আগেই এখানে শুরু হয় প্রতিমাশিল্পীদের মহা কর্মযজ্ঞ। কাঠ বাঁশ দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরি, এঁটেল ও পলি মাটি সংগ্রহ করে প্রতিমার রূপ দেওয়া ও সবশেষে চলে অলঙ্করকরণ। এসব কাজে পুরো পালপাড়া ব্যস্ততম দিন কাটায়।

দুর্গাপূজাতেই আড়াই থেকে তিনশো প্রতিমা তৈরি করেন পালপাড়ার কারিগরেরা। যার মূল্য এক থেকে সোয়া কোটি টাকা। শুধু দুর্গাই নয়, লক্ষ্মী, স্বরস্বতী, কালীপূজোর প্রতিমাও এখানে তৈরি হয়।

ভদ্রঘাট পালপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, খোলা মাঠ আর বড় বড় ঘরে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন কারিগরর। অধিকাংশ প্রতিমা মাটির কাজ শেষে চলছে তুলির আঁচরে সাজানোর কাজ। শিল্পীরা রঙ-তুলির আঁচড়ে সাজিয়ে তুলছেন দেবী দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক, গণেশ ও অসুরকে। পূজার আর মাত্র কয়েকটি দিন বাকি। তাই কারিগরদের কথা বলার সময় নেই। নির্ধারিত সময়ে প্রতিমা তৈরি শেষ করতে বাড়ির নারী, তরুণ-তরুণীরাও কাজে লেগে পড়েছে।

 

প্রতিমাশিল্পীরা জানান, ভদ্রঘাট পালপাড়ায় ৪০/৪৫টি পাল পরিবার রয়েছে। তারা সারা বছরই মৃৎশিল্পের কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। এদের মধ্যে ১৩টি পরিবার প্রতিমা তৈরির ব্যবসায় জড়িত। তবে প্রতিমা তৈরির কারিগর হিসেবে কাজ করেন পালপাড়ার প্রায় সকল সদস্যই। এছাড়াও অন্য এলাকা প্রায় অর্ধ শতাধিক শ্রমিক দৈনিক মজুরী হিসেবে কাজ করেন।

জানা যায়, চলতি বছর ২৫০টিরও বেশি মন্দিরের দুর্গা প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে ভদ্রঘাট পালপাড়ায়। সবচেয়ে ছোট প্রতিমার মূল্য ২৫ হাজার এবং সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা। সিরাজগঞ্জ ছাড়াও বগুড়া, নাটোর, রাজশাহী, পাবনা ও টাঙ্গাইল জেলাতেও চলে যাচ্ছে ভদ্রঘাটের প্রতিমা।

তিন-চার মাস আগে প্রতিমার অর্ডার চলে আসে বিভিন্ন জেলার মন্দির থেকে। অর্ডার অনুযায়ী শুরু হয় কর্মযজ্ঞ। তবে উপকরণের দাম বেড়ে গেলেও প্রতিমার মূল্য বাড়েনি বলে অভিযোগ প্রতিমা কারিগরদের। বেশি দামে, বাঁশ, কাঠ, সুতা, খড় রঙসহ বিভিন্ন উপকরণ কিনে এবং শ্রমিকদের মজুরী দিয়ে তেমনটা লাভ করতেও পারছেন বলে জানান।

অপরদিকে অনেকেই বড় ঘর না থাকায় খোলা জায়গায় প্রতিমা তৈরির কাজ করতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে অনেককে। টানা বৃষ্টিতে পলিথিনে ঢেকে রাখতে হয়েছে মাটির প্রতিমাকে। প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার রাস্তা না থাকাতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের।

গোপীনাথ পাল ও তার স্ত্রী অনিতা পাল বলেন, বাংলাদেশের মধ্যে ভদ্রঘাটেই প্রতিমা তৈরির কারখানা বড়। বংশগত পেশা হিসেবে ৪০ বছর ধরে তারা প্রতিমা তৈরি করছেন। এবার জৈষ্ঠ্য মাস থেকেই প্রতিমা বানানো শুরু করেছেন। বৃষ্টির জন্য প্রতিমা তৈরি অনেকটা পিছিয়ে গেছে। রোদ না থাকায় গ্যাস দিয়ে শুকিয়ে রঙ করা হচ্ছে। জিনিসপত্রের দাম বেশি হওয়ায় এবার তেমনটা লাভ হবে না বলে জানান তারা।

বিপুল পাল বলেন, পালপাড়ায় আমরা সবাই মিলে কাজ করি। এখানে আড়াইশোর বেশি প্রতিমা তৈরি হয়। সবকিছুর দাম বেশি, তাই পোষায় না। তারপরও বাপ-দাদার পেশা সেই জন্য কাজ করি। আষাঢ় মাসে রথযাত্রার পবিত্র দিন থেকে কাজ শুরু করেছি। আমরা কাঠ থেকে শুরু করে বাঁশ, খড় দিয়ে কাঠামো তৈরি করি। তারপর এঁটেল মাটি ও পলি মাটি থেকে মাটি কিনে এনে তা  দিয়ে প্রতিমা তৈরি করির রঙের কাজ হয়।

ভাদু পাল বলেন, এখানে অনেক পাল সম্প্রদায় আছে, কিন্তু এই প্রতিমার কাজ করি আমরা ১৩টি পরিবার। আমাদের প্রতিমা, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, পাবনা, বগুড়া রাজশাহীতে যায়। কারিগর, বউ ছেলেপেলে দিয়ে দিয়ে রাতদিন কাজ করাতে হয়। খাওয়া দাওয়া ঘুমের নির্দিষ্ট সময় নাই। শেড না থাকায় বাইরে কাগজের নীচে রাখতে হয়। সরকার যদি এখানে শেড তৈরি করে দিতো, তাহলে সবাই মিলে একসাথে কাজ করতে পারতাম।

কৃষ্ণ কুমার পাল, দীপঙ্কর পাল,নিপা রানী পাল, নুপুর পালসহ অনেকেই বলেন, আমরা সারাবছর অন্য কাজ করলেও দুর্গাপূজার তিন মাস আগে থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ করি। দৈনিক মজুরী নিয়ে আমরা কাজ করি।

 

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সন্তোষ কুমার কানু বলেন, ভদ্রঘাট পালপাড়া প্রতিমাপল্লীতে প্রতি বছর ৩শটির মতো প্রতিমা তৈরি হয়। এই প্রতিমা দেশের বিভিন্ন জেলায় যায়। প্রতিমাশিল্পীদের জীবন-জীবিকার জন্য সরকারের কাছে আবেদন রাখবো, মৃতশিল্পকে বাঁচানোর জন্য যে সহযোগীতা প্রয়োজন সেটা যেন করা হয়।

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ভদ্রঘাটের  প্রতিমা শুধু সিরাজগঞ্জে নয়, বগুড়া, টাঙ্গাইল, পাবনা নাটোরসহ বিভিন্ন জেলায় যায়। কিন্তু প্রতিমা বের করার মতো ভালো রাস্তা নেই। ডিসি সাহেবকে বলেছি, সেখানে ভালো একটি রাস্তা করার জন্য। তিনি তাৎক্ষণিক ইউএনও সাহেবকে নির্দেশ দিয়েছেন। সেখানে নিরাপত্তারও  একটি বিষয় আছে। সে জন্য আমরা চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের আশ্বাস দিয়েছি।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘোষণা দিয়েছি ৩৫০ মিটার রাস্তা সহসাই করে দেব। পালপাড়ার শিল্পীদের জন্য শেড নির্মাণেরও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো জনপ্রিয় সংবাদ

© All rights reserved © 2024 dailyalokitosolanganews.com

Design & Development By HosterCube Ltd.