
জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় প্রায় ১৩ মাস ধরে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ হাসনাত। দায়িত্বকালীন সময়ে নানা কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে একের পর এক অভিযোগ ও বিতর্ক, যা স্থানীয় জনগণ ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মাঝে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকালে সম্প্রতি উল্লাপাড়ার সাংবাদিক শিশির আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ফেসবুক আইডি থেকে ইউএনওর কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন,
#UNO_ullapara
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ হাসনাত আপনাকে উদ্দেশ্য করে বলছি, এ উপজেলায় এসেছেন প্রায় ১৩ মাস গত হতে চলেছে..
বিগত ১৩ মাসে আপনাকে নিয়ে যে তিক্ত অভিজ্ঞতা তিক্ত অভিজ্ঞতা সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে, তা এবার আমাকেও নাড়া দিতে শুরু করেছে। তাই আপনার প্রতি আন্তরিকতা রেখেই বলছি– স্বসম্মানে প্রস্থান করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করুন। সামাজিক সংগঠনগুলো আপনার সতকাহন রচনা করার জন্য মুখিয়ে রয়েছে।
আগের কর্মস্থল তথা পবা উপজেলায় ৯১ লক্ষ টাকার দুর্নীতির অভিযোগে আপনাকে যেভাবে কলমের শূলে চড়ানো হয়েছিল তা কিন্তু এত সহজেই ভুলে যাবার কথা নয়, নিশ্চয়ই আপনার এটা মনে আছে যে, “দুর্নীতিবাজ ইউএনও এর জায়গায় উল্লাপাড়ায় হবেনা” শিরোনামে সামাজিক সংগঠনগুলো সোচ্চার হয়ে উঠেছিল। শহীদ মিনার ঘেরাও করেছিলো আরো নানাবিধ কর্মসূচি… যে মানুষ গুলোর জন্য স্থগিত হয়েছিল , সবাইকে নিয়ন্ত্রণ এনে আপনাকে অত্র উপজেলার আসার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল তা আপনি ভুলে গেছেন এটা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি।
আপনি হয়তো এটাও ভুলে গেছেন যে, Sisir Alam নামের এই ফেসবুক আইডি থেকে একেই স্ট্যাটাসের দুই সপ্তাহের মধ্যেই কিন্তু আপনার আগের ইউএনও কে সরিয়ে নিয়েছিল উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। পূর্বের ঘটনার পুনরাবৃত্তি করে আপনাকে হেয় করতে চাই না। তবে আপনার প্রতি একটি উন্মুক্ত বার্তা দেওয়াটা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছিল তাই কিছুটা সীমাবদ্ধতা রাখলাম।
তিনি তার ফেসবুকে আরো দাবী করেন , আগের ইউএনওকে সরিয়ে দেওয়ার পেছনে জনগণের আন্দোলনের বড় ভূমিকা ছিল। আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই বর্তমান বিতর্কিত ইউএনওর পদায়ন নিয়ে নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হয়।
এ নিয়ে ইউএনও মোহাম্মদ হাসনাত বা তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক সংগঠনগুলো জানিয়েছে, প্রয়োজনে তারা আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
সাংবাদিক শিশির আলমের ভাষ্য, আমি একজন স্বাধীন সাংবাদিক। কোনো চাপ বা প্রভাবের কাছে মাথানত করি না। জনগণের সত্য তুলে ধরার জন্যই আমার এই বক্তব্য।
উল্লাপাড়ার সাধারণ মানুষের প্রশ্ন— বিভিন্ন পত্রিকায় নিউজ প্রচার হওয়ার পরেও বিতর্কের ভেতর দিয়ে মোহাম্মদ হাসনাতের দায়িত্বকাল আর কতদিন স্থায়ী হবে এমনটাই প্রশ্ন উল্লাপাড়া বাসির ?
১৪.৯.২০২৫ইং
ছবি সংযুক্ত