
নিজস্ব প্রতিবেদক।
তুষার তালুকদারঃ সলঙ্গার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অজপাড়া গ্রাম দক্ষিণ পুস্তিগাছা।এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে মেয়েদের শিক্ষার জন্য তেমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না।ফলে অধিকাংশ মেয়েদের লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। তাই ১৯৯৪ সালে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এলাকার কিছু বিদ্যোৎসাহী মানুষের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় সলঙ্গার দক্ষিণ পুস্তিগাছা বনানি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
বর্তমানে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক এস. এম. আমিনুল হক স্বপনের নেতৃত্বে ১০ জন শিক্ষক ও ২ জন শিক্ষিকা দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫৪ জন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ২৬টি এসএসসি ব্যাচ এই বিদ্যালয় থেকে পাশ করেছে এবং প্রতিবারই ফলাফল সন্তোষজনক ছিল।
বর্তমানে নানা রকমের প্রতিকূলতা পেরিয়ে এই বিদ্যালয়ের মাধ্যমে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়ছে অত্রাঞ্চালের মেয়েদের মাঝে। ক্রমেই বাড়ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে নিয়মিত আয়োজন করা হয় অভিভাবক সমাবেশ, বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিক্ষা সফর, মাসিক পরীক্ষা ও লাইব্রেরি কার্যক্রম। ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়াও শিক্ষকরা পাঠ প্রস্তুতি নিয়ে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করে থাকেন।
বিদ্যালয়ে রয়েছে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব ও পাঠদানের উপকরণ। শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেরও ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রধান শিক্ষক জানন বিদ্যালয়ের প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে বাল্যবিবাহ। অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। এই সমস্যা সমাধানে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। পাশাপাশি টিফিন পিরিয়ডে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত খাবার না খাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। এজন্য সবাইকে টিফিন সঙ্গে আনার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
ভবিষ্যতে বিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে শিক্ষকরা বাল্যবিবাহ ও ঝরে পড়া রোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে চান। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, সাপ্তাহিক ও মাসিক পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো এবং পড়াশোনার প্রতি বেশি মনোযোগী করতে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রধান শিক্ষক জানান।
নানা রকমের প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজ স্ব-গর্বে দাঁড়িয়ে আছে দক্ষিণ পুস্তিগাছা বনানি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।এটি শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়,বরং প্রত্যন্ত অঞ্চলের বালিকাদের স্বপ্ন পূরণের সোপান এবং আলোকিত ভবিষ্যতের প্রতীক।