
স্টাফ রিপোর্টার (নোয়াখালী) নোয়াখালী সদর উপজেলার ৭নং ধর্মপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ধর্মপুর গ্রামে ৯০ একর এলাকা নামক স্থানে কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন জনৈক মোঃ শাহাদাত। কে এই শাহাদাত? কেনোই বা তার এতো ক্ষমতা! এলাকায় ঘুরে জানা গেলো পরিচয়। তিনি ধর্মপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। পরিবারে একেক ভাই একেক দলের রাজনীতি করেন । সকল দলের অবস্থান আবাস্থল তাদের পরিবারে। বাবা বিশিষ্ট আওয়ামীলীগ নেতা । ভাইদের কেহ জামায়াত, কেহ বিএনপি, কেহবা আওয়ামীলীগ। যেনো হরেক রঙের মিশ্রন। বাহারি খাবারের এক রেস্তোরাঁ। তাইতো ভয়কে জয় করে সব আমলে চলে তাদের রাম রাজত্ব। টাকার নেশায় হেনো কাজ নেই যা তারা করতে দ্বিধা করেন না। কোন দলের কোন নেতাকে কিভাবে মেনেজ করতে হয় তার কলা কৌশলে দুরন্তপনা এ পরিবার। মেধা মননশক্তি শয়তানের অবিকল্প। ইতোমধ্যে তাকে বালু খোর কুক্ষ্যাত বালু ব্যবসায়ী বলেই সবাই জানে । তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। ৫ আগষ্টের পর সে বিভিন্ন অপরাধ করে অবৈধ কালো টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছে। তার বিরুদ্ধে এলাকার বাসিন্দাদের জোর পুর্বক জায়গা দখল ও অবৈধ বালু উত্তোলন করে তা বিক্রি করার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। শাহাদাত স্থানীয় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় নির্বিচার বালু উত্তোলন সহ পেশী শক্তির জোরে অন্যায় করলেও সাধারণ খেটে খাওয়া ভুক্তভোগী মানুষ তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। বালু উত্তোলনের ফলে এলাকাবাসী সহায়-সম্পদ হারানোর আশংকা করছে। আইন অনুযায়ী খোলা স্থান, কৃষি ও নদীবক্ষ থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বালু উত্তোলন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বালু ব্যবসায়ীরা আইনকে অমান্য করে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখায় আবাদী জমি, ঘরবাড়ী, ব্রিজ ও রাস্তা বিপন্ন হয়ে পড়তে পারে বলে আতংকিত তারা । বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন, ২০২৩ এর ৬২ নং আইনের ধারা ৭ এর (ক) কোন ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি হইতে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাইবে না, যদি-(ক) উহা উর্বর কৃষি জমি হয়;(খ) বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে হয়;(গ) কৃষি জমির উর্বর উপরিভাগের মাটি বিনষ্ট হয়;(ঘ) পরিবেশ, প্রতিবেশী বা জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি সাধিত হয় (ঙ) ড্রেজারের মাধ্যমে বা অন্য কোনো কৌশলী প্রক্রিয়ায় বালু বা মাটি উত্তোলন করা হয়, যাহাতে উক্ত জমিসহ পার্শ্ববর্তী অন্য জমির ক্ষতি, চ্যুতি বা ধসের উদ্ভব হয়। স্থানীয় সচেতন মানুষ জানিয়েছেন, একদিকে বালু ব্যবসায়ীদের রাজনৈতিক প্রভাব অন্যদিকে প্রশাসনের কতৃপয় অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঁতাতের কারণে সাধারণ মানুষ এই অবৈধ বালু উত্তোলন প্রতিরোধ করতে পারছে না। স্থানীয় প্রশাসন মাঝে-মধ্যে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের যন্ত্রপাতি পুড়িয়ে দিলেও বালু উত্তোলন থামছে না। তারা এ বিষয়ে প্রশাসনকে আরো কঠোর ভুমিকা রাখার আহবান জানান।