
পারমাণবিক নিরাপত্তায় বড়সড় নিরাপত্তা ঝুঁকি? বৃহত্তম কেন্দ্রে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ, সুরক্ষাবলয়ে অস্বস্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা/নয়াদিল্লি
ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁস হয়েছে—এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। স্পর্শকাতর এই বিষয় নিয়ে জাতীয় স্তরে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ। তবে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মুখ খুলেছে নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এনপিসিআইএল)। সরকারি এই সংস্থাটি আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, পারমাণবিক নিরাপত্তার সঙ্গে আপস হওয়ার কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
এনপিসিআইএল-এর ব্যাখ্যা
জনপ্রিয়তা ও জনমানসে ভয়ের পরিবর্তে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে গিয়ে এনপিসিআইএল স্পষ্ট করেছে যে, যে তথ্যগুলো লিক বা ফাঁস হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তা মূলত সাধারণ ‘ব্যালেন্স অব প্ল্যান্ট’ (Balance of Plant) সংক্রান্ত। এর সঙ্গে সরাসরি পারমাণবিক নিরাপত্তা বা কেন্দ্রের ক্রিটিক্যাল সিস্টেমের কোনো দূরতম সম্পর্কও নেই।
চুক্তির নেপথ্যে কী?
সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে একটি স্বচ্ছ পাবলিক টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ‘ব্যালেন্স অব প্ল্যান্ট’ প্যাকেজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারকে। এই চুক্তির আওতায় মূলত প্রকৌশল, প্রকিউরমেন্ট এবং সাধারণ পরিষেবা সুবিধার নির্মাণ কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এনপিসিআইএল-এর দাবি, যে নথিগুলো সামনে এসেছে তা শুধুমাত্র এই সাধারণ পরিষেবা এবং নির্মাণ কাজের অংশ, যার সাথে পারমাণবিক চুল্লির নিরাপত্তা বা গোপনীয় সিস্টেমের কোনো সংযোগ নেই।
নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকার
সরকারের পক্ষ থেকে বারবার জোর দিয়ে বলা হচ্ছে, সাইবার সুরক্ষা বা পারমাণবিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ফাঁক রাখা হয়নি। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো কারণ নেই বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। তবে, ডিজিটাল জমানায় সরকারি প্রকল্পের তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হবে বলেই আভাস মিলছে।
পরমাণু চুল্লির নিরাপত্তা নিয়ে যখনই কোনো প্রশ্ন ওঠে, তা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়। এনপিসিআইএল-এর এই স্পষ্টীকরণের পর আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।